যুক্তরাজ্যে কর্মহীন তরুণের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ

যুক্তরাজ্যে ১৬-২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ বর্তমানে কোনো ধরনের শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নেই।

আন্তর্জাতিক পরিভাষায় এদের ‘নিট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি এক পরিসংখ্যানে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশটির অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খবর বিবিসি।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে ১৬-২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৯ লাখ ৫৭ হাজার জনই কোনো ধরনের কাজ বা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পরিসংখ্যান বলছে, ওই বয়সসীমার মোট তরুণ জনগোষ্ঠীর ১২ দশমিক ৮ শতাংশই এখন এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মূলত ব্রিটেনের শ্রমবাজারের দুর্বলতা এবং হসপিটালিটি খাত ও গ্র্যাজুয়েট স্কিমগুলোয় সুযোগ কমে যাওয়াই তরুণদের এ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এ সংকটের পেছনে কেবল অর্থনৈতিক মন্দা নয়, বরং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অটিজম বা স্নায়বিক সমস্যায় ভোগা তরুণরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। গত তিন বছর ধরে বেকার ২৪ বছর বয়সী তরুণ জোসেফ জানান,"নিয়োগকারীরা অটিজমকে শক্তি হিসেবে না দেখে বরং বাধা মনে করেন। অভিজ্ঞতা ছাড়া কাজ পাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওএনএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং তরুণীদের ১২ দশমিক ২ শতাংশ এ বেকারত্বের শিকার। গত কয়েক মাসে বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে কাজ হারানোর হার বেড়েছে। তবে আশার কথা হলো, অনেক তরুণ এখন নতুন করে চাকরির সন্ধানে নামছেন।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্রিটিশ সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন একে একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস ঘোষণা করেছেন, যারা ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে বেকার, তাদের জন্য সরকার বেতনভুক্ত কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেবে। তবে কেউ এ সুযোগ নিতে না চাইলে তার সরকারি সুবিধাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বে এ সংকটের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি তরুণদের অলসতা নয়, বরং বর্তমান ব্যবস্থার ব্যর্থতা। স্কুল থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, সবখানেই তরুণরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বে।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের মতো গবেষণা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, দেশটিতে তরুণ বেকারের সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছানো একটি বড় বিপদ সংকেত। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে। যুক্তরাজ্যের তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে শ্রমবাজার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও